মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না: মানবসম্পদমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৬
বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শ্রমিকবান্ধব করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানান বলেছেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে শোষণ, বৈষম্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির কোনো সুযোগ রাখা হবে না। শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়া সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।
রবিবার (২২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
রামানান উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পখাতের অগ্রগতিতে বাংলাদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। বাংলাদেশ বিদেশি শ্রমিক সরবরাহকারী প্রধান দেশগুলোর একটি হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার-সংক্রান্ত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নৈতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হলে কর্মীদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদাও টেকসই ও দায়িত্বশীল উপায়ে পূরণ করা সম্ভব হবে।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী জানান, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারণে তার মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ শ্রমিক প্রেরণকারী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও শ্রমবাজার সহযোগিতা গুরুত্ব পায়। বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক অভিবাসনকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও উভয় দেশের জন্য লাভজনক করতে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনের বিষয়ে সম্মত হন।
এই যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করবে এবং বর্তমান বাস্তবতার আলোকে আরও কার্যকর ও আধুনিক একটি নতুন এমওইউ প্রণয়নের ভিত্তি তৈরি করবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর ফলে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর পথও সুগম হতে পারে।
অতীতে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তবে নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে মালয়েশিয়া।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও কর্মীবান্ধব হয়ে উঠবে। পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।



