জ্বালানিসংকটে অন্ধকারে কিউবা, স্থবির জনজীবন

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২৬

তীব্র জ্বালানিসংকটের মধ্যে আবারও বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কিউবা। সোমবার (৬ জুলাই) দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড ভেঙে পড়ায় প্রায় এক কোটি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্যসেবা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

কিউবার রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান ‘ইলেকট্রিক ইউনিয়ন’ জানিয়েছে, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড হঠাৎ ভেঙে পড়ার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

দেশটির জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে বিশেষ জরুরি প্রোটোকল চালু করা হয়েছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই কিউবায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকির পর আন্তর্জাতিক সরবরাহ আরও কমে যায়, যা সংকটকে গভীর করেছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দেশজুড়ে গণপরিবহন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে বহু জরুরি অস্ত্রোপচার স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক এলাকায় পানি ও গ্যাস সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।

হাভানার বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে রান্নার জন্য বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

কিউবা নিজেদের চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ জ্বালানি উৎপাদন করতে পারে। বাকি জ্বালানি আমদানির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। গত মার্চে রাশিয়া থেকে বড় চালান এলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এরপর জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সরকার এলাকাভিত্তিক দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চালু করে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ ও মে মাসেও কিউবায় জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে বড় ধরনের ব্ল্যাকআউটের ঘটনা ঘটেছিল। সর্বশেষ এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেশটির চলমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে।