ইউরোপে আসা শিশুদের ৬৭ শতাংশই অভিভাবকহীন
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে ইউরোপে আসা শিশুদের বড় অংশই আসছে একা কিংবা কোনো আইনগত অভিভাবক ছাড়াই। জাতিসংঘের তিনটি সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমধ্যসাগরীয় ও বলকান রুট দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করা শিশুদের প্রায় ৬৭ শতাংশ অভিভাবকহীন। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৫১ শতাংশ।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর), জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তৈরি প্রতিবেদনে শিশু অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মানব পাচার, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এসব শিশু গুরুতর ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালি ও স্পেনের প্রবেশপথ দিয়ে ইউরোপে আসা শিশুদের ৮৬ শতাংশ একা বা অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ করছে। এসব শিশুর অনেকে বাংলাদেশ, মিসর, ইরিত্রিয়া ও সোমালিয়া থেকে বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছে। যাত্রাপথ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য ও অভিজ্ঞতা না থাকায় তারা সহজেই পাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়ছে।
যাত্রাপথে সাক্ষাৎকার দেওয়া প্রায় অর্ধেক শিশু ও তরুণ জানিয়েছে, তারা কোনো না কোনোভাবে শারীরিক সহিংসতা, অমানবিক নির্যাতন কিংবা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুট ব্যবহারকারীদের ২৮ শতাংশ জানিয়েছে, লিবিয়ায় তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া ১৭ শতাংশ শিশু দাসত্বের মতো পরিস্থিতিতে বিনা মজুরিতে জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য হয়েছে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে আসা শিশুদেরও ভালো চাকরি ও বৈধ কাগজপত্র দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে যৌন শোষণ এবং ঋণের দায়ে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিভাবকহীন শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বয়স নির্ধারণ, পারিবারিক পরিচয় যাচাই এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে দেরি হচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবক ও আইনি পরামর্শের অভাবে অনেক শিশু নিজেদের অধিকার এবং শরণার্থী হিসেবে সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ সম্পর্কেও জানতে পারছে না। এতে তারা পাচারকারী ও শোষণকারীদের সহজ লক্ষ্য হয়ে উঠছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক চুক্তিতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ও অভিন্ন আইনি কাঠামোর ব্যবস্থা থাকলেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আবাসন, অভিজ্ঞ অভিভাবক নিয়োগ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি রয়ে গেছে।
শিশু অভিবাসীদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পাচার, নির্যাতন ও শোষণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই নিরাপদ আশ্রয়, দ্রুত আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং অভিভাবকহীন শিশুদের জন্য দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।



