কোনো রাগ-অনুরাগ নয়, জনগণের স্বার্থই অগ্রাধিকার: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২৬

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে আমি দল, সংসদ ও মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে এসেছি। আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ। দলনিরপেক্ষভাবেই আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাব।’

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর কারো প্রতি তাঁর কোনো রাগ-অনুরাগ থাকবে না। দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থই হবে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।

যে কোনো পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের প্রতি ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য রাখতে হবে। একই সাথে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, বঙ্গভবন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তসংক্রান্ত সব বিষয়ে কঠোরভাবে গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়।

রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি অপচয় রোধের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দেশের জনগণের অর্থেই সরকারি সম্পদ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়। তাই এসব সম্পদের সঠিক, দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের জীবনে শৃঙ্খলা মেনে চলার পাশাপাশি নিয়মিত নৈতিক মনোবল ও সুন্দর চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দেওয়া শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সাথে যুদ্ধপরবর্তী দেশ ও রাষ্ট্রগঠনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও কৃতিত্ব শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। পূর্ববর্তী সব রাষ্ট্রপতিকেও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তিনি।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা এখানে একটা পরিবার। সবাই একই জায়গায় কাজ করি। আমরা যখন সুযোগ পাব, সেই সময় পরস্পরের সাথে কথা বলে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করব।’

ভবিষ্যতেও সবাইকে সাথে নিয়ে একসাথে কাজ করার আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।