বিদেশি শিক্ষার্থীর আবেদন অস্বাভাবিকভাবে কমে গেল ফিনল্যান্ডে

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

ফিনল্যান্ডে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সগুলোতে এ বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইএ)-এর বাইরে থেকে আবেদন এসেছে মাত্র ১২ হাজার। দুই বছর আগে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ হাজার।

হাগা-হেলিয়া ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সে এ বছর বিদেশি আবেদন এসেছে মাত্র ১ হাজার ২০০টি। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার। একইভাবে কোক্কোলা-ভিত্তিক সেন্ট্রিয়া ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সে আবেদন ১৩ হাজার থেকে কমে মাত্র ১ হাজারে নেমেছে।

সেন্ট্রিয়ার রেক্টর তাপিও হুট্টুলার মতে, ফিনল্যান্ডের চাকরির বাজার খারাপ হওয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা আবেদন কমিয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় পরিবারগুলোও তাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য আর্থিক ঝুঁকি নিতে চাইছে না। তার ভাষায়, শিক্ষার্থীদের টিকে থাকতে কাজের প্রয়োজন হয়। পরিবারও বিনিয়োগ করে পাঠায়, তাই তাদের প্রত্যাশা থাকে শিক্ষার্থী নিজের খরচ সামলাতে পারবে।

গত বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, কিছু এজেন্সি বিদেশি শিক্ষার্থীদের ফিনল্যান্ডের চাকরির বাজার সম্পর্কে অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী ঋণগ্রস্ত হয়ে দারিদ্র্য ও প্রান্তিক জীবনে পড়ছেন। কেউ কেউ জীবনধারণের জন্য সরকারি বা সামাজিক সহায়তার ওপরও নির্ভর করছেন।

এর পাশাপাশি ফিনল্যান্ড সরকার বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মও কঠোর করেছে। সামাজিক সহায়তা গ্রহণ করলে কোনো শিক্ষার্থীর রেসিডেন্স পারমিট বাতিল হতে পারে। ন্যূনতম আয়ের শর্ত বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার পুনর্মিলনের নিয়মও কঠিন করা হয়েছে।

২০২৫ সাল থেকে ইইউ ও ইইএ অঞ্চলের বাইরে থেকে আবেদনকারীদের জন্য ১০০ ইউরো আবেদন ফি চালু করা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় আবেদন কমানোই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এর প্রভাব প্রকৃত আবেদনকারীদের ওপরও পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোতেও শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে সতর্কতা বাড়ছে। ব্রেইন ড্রেইন ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চাকরি ও দীর্ঘমেয়াদি থাকার সুযোগ বিবেচনা করছেন।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন কমে যাওয়ায় ফিনল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে। তবে সেন্ট্রিয়ার রেক্টর তাপিও হুট্টুলা বলেন, এর একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে—যেসব শিক্ষার্থী এখন ফিনল্যান্ডে আসছেন, তাদের পড়াশোনা শেষ করার সম্ভাবনা বেশি।

চাকরির বাজারের দুরবস্থা, কঠোর অভিবাসন ও শিক্ষার্থীসংক্রান্ত নিয়ম এবং এজেন্সিগুলোর বিভ্রান্তিকর তথ্য—সব মিলিয়ে ফিনল্যান্ড বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে আগের তুলনায় কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এর প্রভাব দেশটির উচ্চশিক্ষা খাতের পাশাপাশি অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।