মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশনের অভিযান: বাংলাদেশিদের সামনে এখন কী পথ?
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
মালয়েশিয়ায় অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযান জোরালো হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনেই বিভিন্ন কারখানা, শিল্প এলাকা ও শপিংমলে অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্রহীন বিদেশি কর্মীদের আটক করা হচ্ছে। এসব অভিযানে বাংলাদেশিরাও আটক হয়েছেন।
বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়
৯ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কারখানা ও শিল্প এলাকায় বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৪০টি কারখানাসহ কয়েকটি শিল্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মীকে আটক করা হয়। এর আগে বিভিন্ন অভিযানেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি আটক হয়েছেন।
ফলে বিষয়টি এখন আর বিচ্ছিন্ন অভিযান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে।
কোন অভিযোগে আটক হচ্ছেন বাংলাদেশিরা?
ইমিগ্রেশন অভিযানে আটকের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, বৈধ ওয়ার্ক পারমিট না থাকা, অনুমোদিত নিয়োগকর্তার বাইরে কাজ করা এবং ইমিগ্রেশন আইনের শর্ত ভঙ্গ করা। কিছু ক্ষেত্রে জাল বা ভুল কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
অর্থাৎ শুধু ভিসা না থাকাই ঝুঁকির কারণ নয়। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটের শর্ত ভঙ্গ করে কাজ করলে আটকের আশঙ্কা রয়েছে।
দালাল-এজেন্সির প্রতারণার অভিযোগ
মালয়েশিয়াপ্রবাসী সাংবাদিকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কিছু বাংলাদেশি কর্মী এজেন্সি ও দালালের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। মালয়েশিয়ায় নেওয়ার পর চুক্তি বা ভিসার শর্ত অনুযায়ী কাজ দেওয়া হয়নি। ফলে অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে অন্য কোম্পানিতে কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে অনুমোদিত নিয়োগকর্তার বাইরে কাজ করার অভিযোগে তাদের ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় পড়তে হয়েছে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—যেসব এজেন্সি বা দালালের কারণে কর্মীরা এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার আইনে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
কত বাংলাদেশি অনিয়মিত অবস্থায়?
মালয়েশিয়ায় বর্তমানে ঠিক কত বাংলাদেশি অনিয়মিত অবস্থায় রয়েছেন, তার নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ সরকারি সংখ্যা প্রকাশ্যে নেই। তবে ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কারণে দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দি বা আটক রয়েছেন বলে জানা যায়।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার কারাগার ব্যবস্থায় মোট বন্দির সংখ্যা ছিল ৮৪ হাজারের বেশি। সেখানে বাংলাদেশিদের আলাদা সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারের হিসাবও কারাগারের হিসাব থেকে আলাদা। ২০২৬ সালের মার্চে এসব কেন্দ্রে ২১ হাজারের বেশি অভিবাসী ও শরণার্থী আটক ছিলেন। তবে এ সংখ্যাকে কারাগারের বন্দি হিসেবে গণ্য করা যায় না এবং আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশির সঠিক সংখ্যাও প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশিদের এখন কী করা উচিত?
এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশিদের প্রথম কাজ হলো নিজেদের পাসপোর্ট, ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাই করা। ভিসার শর্ত অনুযায়ী অনুমোদিত নিয়োগকর্তার অধীনেই কাজ করছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
কাগজপত্রে সমস্যা থাকলে পালিয়ে না থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈধ সমাধানের পথ খোঁজা প্রয়োজন। বাংলাদেশ হাইকমিশনও অনিয়মিত বা কাগজপত্রহীন বাংলাদেশিদের বৈধ প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে অনিয়মিত বাংলাদেশির সঠিক সংখ্যা না জেনে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রচার করে আতঙ্ক তৈরি না করে, বৈধতা যাচাই এবং নিরাপদ ও আইনসম্মত প্রত্যাবর্তনের পথ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।



