প্রথম বহরে বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাবেন ১০ হাজার কর্মী

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৬

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শর্তসাপেক্ষে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ খুলছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম বহরে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিমানভাড়াসহ অভিবাসনসংক্রান্ত সব ব্যয়ও বহন করা হবে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের পর মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে ‘জিরো কস্টে’ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব কর্মী সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় যাবেন।

২০২২ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কর্মী প্রেরণকারী এজেন্সি নির্বাচনের একক এখতিয়ার মালয়েশিয়া সরকারের ওপর ন্যস্ত। এ কারণে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি করেছে।

এদিকে মালয়েশিয়ার উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য মোট ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সি ও সাব-এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা অনুমোদিত ২৫টি মূল রিক্রুটিং এজেন্সি ও একটি সরকারি এজেন্সি রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের পর অন্তর্বর্তী সরকারের করা ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে আরও ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত ও ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলো বাদ দিয়ে প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত ১৬টি মেডিক্যাল সেন্টারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। পরে মালয়েশিয়ার তিনটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে সরেজমিন পরিদর্শন করবে। ওই পরিদর্শনের পর মেডিক্যাল সেন্টারগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

কর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে। কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

তবে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রকাশের আগে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে মেডিক্যাল পরীক্ষা না করা এবং কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার জন্যও সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।