৫০ কিলোমিটার যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২:১৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার পর অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান আমিরুন্নেছা নামে ওই নারী।

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন অ্যাম্বুলেন্সে থাকা নিহতের স্বজন তারেক আল হাসান।

নিহত আমিরুন্নেছা লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

স্বজন তারেক আল হাসান জানান, শুক্রবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রাত ৮টার দিকে আমিরুন্নেছাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারা। রাত ১১টার দিকে দাউদকান্দি এলাকায় পৌঁছানোর পর তীব্র যানজটে আটকা পড়ে অ্যাম্বুলেন্সটি।

এরপর প্রায় চার ঘণ্টা ধরে গাড়িটি কার্যত স্থবির হয়ে থাকে। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সেই আমিরুন্নেছার মৃত্যু হয়।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায় বলেন, যানজটের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী মারা যাওয়ার বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন তারা। ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

৫০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আশরিয়ারচর এলাকায় ঢাকামুখী লেনে সংস্কারকাজ শুরু হলে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে তা আশরিয়ারচর থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহাসড়কে যানজট অব্যাহত ছিল। এতে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকা যাত্রীরা জানান, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন স্থির থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন। অনেক যাত্রী খাবার ও পানির সংকটেও পড়েন।

চট্টগ্রাম থেকে বাগেরহাটগামী মুজাহিদ পরিবহনের যাত্রীরা জানান, রাত আড়াইটার দিকে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় যানজটে আটকা পড়েন তারা। সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আমিরাবাদে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

সুরমা পরিবহনের চালক রিপন মিয়া বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এখানে সংস্কারকাজের আগে যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রচণ্ড গরমে বাসের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।

ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ শামীম বলেন, আশরিয়ারচরে ঢাকামুখী লেনে সংস্কারকাজ শুরুর কারণেই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট এখনো রয়েছে। যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ কমাতে হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

সংস্কারকাজের কারণে সৃষ্ট দীর্ঘ যানজটে একজন হৃদরোগীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স আটকে মৃত্যুর ঘটনায় মহাসড়কে যানজট ব্যবস্থাপনা ও জরুরি যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।