বছরে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার ফেলোশিপ দিচ্ছে স্ট্যানফোর্ড
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২৬
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণ অর্থায়নে ফেলোশিপের সুযোগ দিচ্ছে আমেরিকার খ্যাতনামা স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি। ‘স্ট্যানফোর্ড সায়েন্স ফেলোশিপ’-এর আওতায় নির্বাচিত ফেলোরা বছরে ৯৮ হাজার ডলার স্টাইপেন্ডের পাশাপাশি গবেষণা, পেশাগত উন্নয়ন ও স্থানান্তর ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন।
সব মিলিয়ে একজন ফেলোর জন্য বছরে সর্বোচ্চ আর্থিক সুবিধার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ক্যারিয়ারের শুরুর পর্যায়ে থাকা এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে মৌলিক গবেষণায় আগ্রহী বিজ্ঞানীদের জন্য এই ফেলোশিপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা এতে আবেদন করতে পারবেন।
যেসব বিষয়ে গবেষণার সুযোগ
স্ট্যানফোর্ড সায়েন্স ফেলোশিপের আওতায় প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় মৌলিক পরীক্ষামূলক ও তাত্ত্বিক গবেষণা করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও অ্যাস্ট্রোফিজিকস, জীববিজ্ঞান, পরীক্ষামূলক রসায়ন, পৃথিবী ও মহাসাগরবিজ্ঞান, গণিত ও পরিসংখ্যান, পরীক্ষামূলক পদার্থবিজ্ঞান এবং থিওরি ও সিমুলেশন।
নির্বাচিত ফেলোরা স্ট্যানফোর্ডের বিভিন্ন স্কুলের ফ্যাকাল্টি গবেষণা দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন। গবেষণার ধরন অনুযায়ী হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সায়েন্সেস, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিসিন এবং ডোয়ের স্কুল অব সাসটেইনেবিলিটির বিভিন্ন গবেষণা সুবিধাও ব্যবহার করতে পারবেন।
বছরে পাবেন ৯৮ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড
নির্বাচিত ফেলোরা বছরে ৯৮ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড পাবেন। বর্তমান হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ টাকা।
এ ছাড়া গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার এবং এককালীন স্থানান্তর ব্যয়ের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার দেওয়া হবে।
অর্থাৎ মূল স্টাইপেন্ডের বাইরে গবেষণা, পেশাগত উন্নয়ন ও স্থানান্তর ব্যয়ের অর্থ যোগ করলে একজন ফেলো বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন।
যোগ্য ফেলোদের জন্য অতিরিক্ত শিশু যত্ন সহায়তা এবং ভিসা-সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্যও সহায়তা দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও পাবেন নির্বাচিতরা।
তিন বছরের পুরো মেয়াদে শুধু মূল স্টাইপেন্ড হিসাব করলেও একজন ফেলো পাবেন ২ লাখ ৯৪ হাজার ডলার। গবেষণা, পেশাগত উন্নয়ন ও স্থানান্তর ব্যয়ের অতিরিক্ত সহায়তা যোগ হলে মোট আর্থিক সুবিধার পরিমাণ আরও বাড়বে।
আবেদন করতে পারবেন যারা
এই ফেলোশিপ মূলত ক্যারিয়ারের শুরুর পর্যায়ের মেধাবী বিজ্ঞানীদের জন্য। ফেলোশিপ শুরু হওয়ার সময় আবেদনকারীর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পর তিন বছরের বেশি সময় পার হওয়া যাবে না।
পাশাপাশি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ দুই বছরের পোস্টডক্টরাল গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
আবেদনকারীকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে মৌলিক পরীক্ষামূলক বা তাত্ত্বিক গবেষণার শক্তিশালী রেকর্ড দেখাতে হবে। নতুন বৈজ্ঞানিক ধারণা নিয়ে কাজ করার আগ্রহও থাকতে হবে।
তবে সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়কে প্রধান করে গবেষণা প্রস্তাব দিলে এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক গবেষকেরা আবেদন করতে পারবেন। তবে বর্তমানে স্ট্যানফোর্ডের গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী বা পোস্টডক্টরাল গবেষকেরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন না।
একইভাবে, যারা ১ মার্চ ২০২৭-এর আগে স্ট্যানফোর্ডে পোস্টডক্টরাল পদে যোগ দেবেন, তারাও এই ফেলোশিপের জন্য যোগ্য হবেন না।
যেভাবে আবেদন করবেন
আবেদন করতে হবে অ্যাকাডেমিক জবস অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।
আবেদন করার আগে সম্ভাব্য স্ট্যানফোর্ড ফ্যাকাল্টি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের গবেষণার বিষয়, সহযোগিতার সম্ভাবনা এবং হোস্টিং নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
ফেলোশিপ পাওয়ার আগে অন্তত একজন স্ট্যানফোর্ড ফ্যাকাল্টি সদস্যকে আবেদনকারীকে হোস্ট করতে সম্মত হতে হবে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাথমিক বাছাইয়ে নির্বাচিত প্রার্থীদের ফ্যাকাল্টি সদস্যদের একটি প্যানেলের সঙ্গে জুম সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হতে পারে।
যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে—
- কারিকুলাম ভিটা (সিভি)
- কভার লেটার
- গবেষণা স্টেটমেন্ট
- ক্যারিয়ার স্টেটমেন্ট
- তিন থেকে চারজন রেফারেন্সের তথ্য
আবেদনকারীর দেওয়া রেফারিদের কাছে সুপারিশপত্র জমা দেওয়ার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুরোধ পাঠানো হবে।
ক্যারিয়ার স্টেটমেন্টে আবেদনকারীর পেশাগত লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং গবেষণা ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে।
অন্যদিকে গবেষণা স্টেটমেন্টে প্রস্তাবিত গবেষণার বিষয়, গবেষণার গুরুত্ব এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি সম্ভব, তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।
গবেষণা প্রস্তাবে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে কী অর্জন করা সম্ভব এবং স্ট্যানফোর্ডের গবেষণা পরিবেশ কীভাবে সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে, সেটিও তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।
ফেলোশিপের মেয়াদ
স্ট্যানফোর্ড সায়েন্স ফেলোশিপের মেয়াদ তিন বছর। ২০২৭ সালের নির্বাচিত ফেলোদের সাধারণত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৭ থেকে ৩১ আগস্ট ২০৩০ পর্যন্ত এই ফেলোশিপ দেওয়া হবে।
তবে ১ জুলাই বা ১ আগস্ট থেকেও যোগদানের সুযোগ থাকতে পারে। কোনো অবস্থাতেই ১ সেপ্টেম্বরের পরে ফেলোশিপ শুরু করা যাবে না।
আবেদনের শেষ সময়
২০২৭ সালের স্ট্যানফোর্ড সায়েন্স ফেলোশিপের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম)।
নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই শেষ মুহূর্তের জটিলতা এড়াতে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সুপারিশপত্র প্রস্তুত করে আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনের জন্য স্ট্যানফোর্ড সায়েন্স ফেলোশিপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং অ্যাকাডেমিক জবস অনলাইনের নির্ধারিত আবেদন পেজ দেখতে হবে।



