অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা ইইউর

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় নতুন জরুরি কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় কমিশন। ‘ইউরোপীয় ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফ্রেমওয়ার্ক’ নামের এই কাঠামোর লক্ষ্য, সীমান্তে হঠাৎ বিপুলসংখ্যক অভিবাসী প্রবেশ করলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অভিবাসনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া।

স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বার্ষিক ভাষণে এ পরিকল্পনার ঘোষণা দেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন। তিনি বলেন, ‘ইউরোপকে সব সময় সীমান্ত রক্ষার সক্ষমতা রাখতে হবে। বিশেষ করে যখন অভিবাসনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।’

কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন কাঠামো নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড পূরণ হলেই সক্রিয় হবে। তখন সীমিত সময়ের জন্য অভিবাসন ব্যবস্থাপনার কিছু নিয়মে নমনীয়তা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে এখনো এর আইনগত খসড়া প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোন পরিস্থিতিতে কাঠামোটি কার্যকর হবে এবং ঠিক কোন নিয়মে পরিবর্তন আনা যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এর আগে চলতি বছরের জুনে ইইউর ‘প্যাক্ট অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম’ কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে অভিবাসীদের প্রাথমিক যাচাই, আশ্রয় আবেদন, প্রত্যাবাসন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রে অভিন্ন নিয়ম চালু করা হয়েছে।

বর্তমান আইনেও সংকট পরিস্থিতি এবং ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজেশন’—অর্থাৎ অভিবাসীদের ইচ্ছাকৃতভাবে সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি—বিবেচনায় রাখা হয়েছে। কোনো দেশ বা গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে অভিবাসীদের সীমান্তে পাঠালে সদস্য রাষ্ট্রগুলো ইতোমধ্যে কিছু নিয়মে ছাড় চাওয়ার সুযোগ পায়। এর মধ্যে আশ্রয় আবেদন নিবন্ধন চার সপ্তাহ পর্যন্ত বিলম্ব করা এবং সীমান্তে আশ্রয় প্রক্রিয়া ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তবে ইউরোপীয় কমিশনের মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে ধীরগতির এবং পর্যাপ্ত নমনীয় নয়। এ কারণে সংকট দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নতুন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বিদ্যমান সংকটসংক্রান্ত আইন সংশোধন করবে, নাকি আলাদা একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে—সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

ভন ডার লেয়েন সাম্প্রতিক গ্রীষ্মের বিভিন্ন ঘটনাকেও এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত করেছেন। পূর্ব ইউরোপের সীমান্ত, ভূমধ্যসাগর এবং স্পেনের সেউটা এলাকায় অভিবাসন নিয়ে চাপ বেড়েছিল। জুলাইয়ে সেউটায় একসাথে ৭০ হাজারের বেশি অনিয়মিত অভিবাসী প্রবেশ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধও দেখা দেয়।

কমিশনের ভাষ্য, মানব পাচারকারী ও অভিবাসন পাচারকারীদের পাশাপাশি শত্রুভাবাপন্ন পক্ষও অভিবাসীদের ব্যবহার করতে পারে। তাই সীমান্তে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।

নতুন কাঠামোর পাশাপাশি ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সংস্থাটির ভূমিকা বাড়ানো হবে। তৃতীয় দেশগুলোর সাথে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থাও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া অনলাইন নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অভিবাসনের সম্ভাব্য প্রবাহ আগে থেকেই শনাক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখনো কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া বাকি। কোন পরিস্থিতিকে ইউরোপীয় পর্যায়ের জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তখন সদস্য রাষ্ট্রগুলো কতটা নমনীয়তা পাবে এবং নতুন কাঠামো বিদ্যমান সংকট ব্যবস্থার সাথে কীভাবে সমন্বয় করবে—এসব বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।