বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দিল লাওস
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে লাওস। দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন কর্মঅনুমতি, শ্রম আমদানি পরিকল্পনা ও শ্রম প্রকল্প অনুমোদন স্থগিত থাকবে।
৯ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানব পাচার, অনুমোদনহীন শ্রম দালালদের দৌরাত্ম্য এবং নিয়োগকর্তাদের অনিয়ম ঠেকাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষভাবে বাংলাদেশিদের কেন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় কোনো স্পষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
লাওস সরকারের অনুমোদিত বড় অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। যেসব প্রকল্পের কাজের চুক্তি ও সময়সীমা আগে থেকেই নির্ধারিত রয়েছে, সেসব প্রকল্পে বাংলাদেশি শ্রমিকরা কাজ করতে পারবেন।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি বা নিয়োগকর্তা বাংলাদেশি নাগরিকদের লাওসে প্রবেশ বা নিয়োগের অনুমতি দিতে পারবেন না। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য শ্রম ভিসা (এলএ-বি২) অনুমোদনও বন্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বা আমদানি করলে প্রতি কর্মীর জন্য নিয়োগকর্তাকে ২৫ লাখ লাও কিপ জরিমানা দিতে হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কর্মী এনে অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বা স্থানান্তর করলেও একই জরিমানা দিতে হবে।
অন্য প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত কর্মীকে নিজের অধীনে কাজ করালে ২০ লাখ লাও কিপ জরিমানা হবে, যা প্রায় ১ লাখ টাকা।
এ ছাড়া কোনো কর্মী অনুমতি ছাড়া অন্য কর্মস্থলে গেলে প্রতিবার তাকে ১০ লাখ লাও কিপ জরিমানা করা হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার টাকা। একই সঙ্গে ৩০ দিনের মধ্যে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। ফেরত পাঠানোর খরচ বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাকে।
একই অপরাধ বারবার করলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাওসে বর্তমানে কতজন বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন বা কোন খাত এই নিষেধাজ্ঞায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশি শ্রমিকরা দেশটির নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে কাজ করে আসছেন।



