এপির বিশ্লেষণে তথ্য

আমেরিকায় ঢোকার পর ৪৫ লাখ অভিবাসী গেলেন কোথায়?

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

গত এক দশকে আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষকে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তাদের কেউ আশ্রয়, আবার কেউ মানবিক কারণে ভিসা পেয়েছিলেন। এসব অভিবাসীর তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

সীমান্তে আটক হওয়ার পর অনেক অভিবাসীকে আদালতে হাজিরা দেওয়া কিংবা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কার্যালয়ে রিপোর্ট করার নোটিশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের অনেকে অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করলেও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আশ্রয়ের আবেদন করার অধিকার ছিল। ২০২৩ সালে অভিবাসন সংকট চরমে পৌঁছালে কেউ কেউ প্রথম শুনানির জন্য ১০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষার নির্দেশ পান।

এপি জানতে চেয়েছিল, আমেরিকায় প্রবেশের পর এসব অভিবাসী কোথায় গেছেন। সীমান্ত কর্মকর্তারা প্রত্যেক অভিবাসীর দেওয়া ঠিকানা রেকর্ড করেছিলেন। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই অভিবাসীদের সম্ভাব্য গন্তব্যের চিত্র তুলে ধরেছে এপি।

২০২৫ সালের জুনে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশনের (সিবিপি) কাছে আবেদন করে এপি। তারা অভিবাসীদের নাম বা পূর্ণ ঠিকানা চায়নি। শুধু জিপ কোড, জাতীয়তা, বয়স ও লিঙ্গের তথ্য চাওয়া হয়েছিল।

দীর্ঘ আলোচনার পর সিবিপি ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা ৫৬ লাখ মানুষের তথ্য দেয়। এতে জাতীয়তা, বয়স, লিঙ্গ, প্রবেশের তারিখ, সীমান্ত সেক্টর এবং আমেরিকায় গন্তব্যের জিপ কোড ছিল।

এপি জিপ কোডবিহীন এবং একই ব্যক্তির একাধিক তথ্য বাদ দেওয়ার পর সংখ্যা কমিয়ে ৩৬ লাখে আনে। পরে ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে প্রবেশ করা আরও প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষের তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্যও যাচাই করে এপি মোট সংখ্যা প্রায় ৪৫ লাখে নির্ধারণ করে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় এক লাখ অভিবাসীর দেওয়া ঠিকানা ছিল আইসিইর আটককেন্দ্র বা কারাগারের জিপ কোডে। যেমন টেক্সাসের কার্নেস কাউন্টিতে প্রায় ১৪ হাজার অভিবাসীর তথ্য পাওয়া যায়। অথচ ওই এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। এ ধরনের তথ্য আলাদা করে বাদ দেওয়া হয়েছে।

কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক সংখ্যার তথ্যও পাওয়া গেছে। ডালাসের একটি জিপ কোডে প্রায় ১৯ হাজার ভেনেজুয়েলান অভিবাসীর তথ্য ছিল। অথচ ওই এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ কেউ ঠিকানা দিলেও বাস্তবে সেখানে কখনো বসবাস করেননি। তবে এ ধরনের ঘটনা বিরল বলে উল্লেখ করেছে এপি।

গোপনীয়তার কারণে ১০ জনের কম অভিবাসীর তথ্য থাকা কোনো জিপ কোড প্রকাশ করেনি এপি। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সাংবাদিকেরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অভিবাসীদের বসতি ও জীবনযাত্রা নিয়েও প্রতিবেদন করেছেন।

এতে দেখা গেছে, সল্ট লেক সিটি এলাকায় বহু ভেনেজুয়েলান অভিবাসী বসতি গড়েছেন। অন্যদিকে সিনসিনাটি এলাকায় আফ্রিকা ও অন্যান্য মহাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের তুলনামূলক বেশি বসতি দেখা গেছে।