অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমাতে নতুন নিয়ম, কড়াকড়ি শিক্ষার্থী ভিসায়
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী টনি বার্ক ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে দেওয়া ভাষণে নতুন নীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। কয়েক সপ্তাহের বিতর্ক ও বিলম্বের পর এসব পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে।
টনি বার্ক জানান, নতুন সংস্কার তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে করা হয়েছে—কে অস্ট্রেলিয়ায় আসবেন, কে দেশটিতে থাকবেন এবং কে অস্ট্রেলিয়া ছাড়বেন। এর মধ্যে শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার, ভিসা হপার এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আর পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যেতে পারবেন না। তবে পিএইচডি শিক্ষার্থী এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও আসিয়ানভুক্ত কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে। এই নিয়ম ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় আসা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। বর্তমানে দেশটিতে থাকা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আলাদা করা হবে না।
ভিসা হপিং বন্ধ করতে নতুন যোগ্যতা স্কেল চালু করা হবে। এর আওতায় শিক্ষার্থীরা কেবল উচ্চতর পর্যায়ের কোর্সে ভর্তি হলে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারবেন। যেমন, ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করে মাস্টার্সে ভর্তি হলে ভিসা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
ব্যাকপ্যাকারদের ক্ষেত্রেও নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বছরে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার এবং তৃতীয় বছরে মাত্র ৫ হাজার ব্যাকপ্যাকার অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারবেন। আগে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৭ হাজার ও ৩১ হাজার। তবে যুক্তরাজ্যের নাগরিকেরা এই সীমার বাইরে থাকবেন। দেশটির সাথে অস্ট্রেলিয়ার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থাকায় তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা অস্ট্রেলিয়ায় থাকছেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে প্রায় ৭৭ হাজার মানুষ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান করছেন। তাদের আটক এবং দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বার্ক।
তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া হবে। ওই সময় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আটক করা এবং নিজ খরচে দেশে ফেরার ব্যবস্থা ছিল।
এ ছাড়া অভিবাসন এজেন্টদের বিরুদ্ধেও শাস্তির ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ভুয়া আবেদন করতে সহায়তা করা এজেন্টদের নিবন্ধন বাতিল করা হবে।
দক্ষ কর্মীদের জন্য পয়েন্টভিত্তিক বাছাই ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন নিয়মে নির্মাণ খাতের যোগ্যতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির সমমান হিসেবে বিবেচনা করা হবে। স্বাস্থ্য, নির্মাণ, শিক্ষা এবং আইন প্রয়োগকারী খাতের দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সরকার জানিয়েছে, নতুন পরিবর্তনের অন্যতম লক্ষ্য হলো নেট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা কমানো। ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত এই সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০ থেকে কমিয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর প্রতি বছর এই সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজার রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
টনি বার্ক বলেন, অভিবাসীদের আবাসন সংকটের জন্য দায়ী করা হচ্ছে না। তবে আবাসনের সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে অভিবাসনের গতি কমানো প্রয়োজন।
নতুন নীতির সমালোচনাও শুরু হয়েছে। আশ্রয়প্রার্থী সহায়তা কেন্দ্রের প্রধান বলেছেন, এটি বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি অন্ধকার দিন। জাতীয় কৃষক ফেডারেশন জানিয়েছে, ব্যাকপাকার ভিসায় সীমা আরোপ করা হলে খাদ্য নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেলে দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
নতুন অভিবাসন নীতির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া সরকার শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার ও ভিসা হপারদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য অভিবাসনের সংখ্যা কমানো এবং আবাসন সরবরাহের ওপর চাপ কমানো। তবে নতুন নীতির প্রভাব নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।



