অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ধস: অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি আবেদন প্রত্যাখ্যান
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ, মে ৫, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ। দেশটির সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে চলতি বছরে রেকর্ড হারে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
রেকর্ড প্রত্যাখ্যানের হার অস্ট্রেলীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৩২.৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ; ফেব্রুয়ারি মাসে অফশোর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ছিল ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি দুইজনে একজনের আবেদনই বাতিল হয়েছে।
কেন এই কড়াকড়ি? অস্ট্রেলিয়া সরকার ‘ভিসা-হপিং’ বা এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় পরিবর্তন বন্ধ করতে এবং ভুয়া আবেদনকারীদের রুখতে বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে:
-
আর্থিক স্বচ্ছতা: ৩ মাস পুরোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং জীবনযাত্রার খরচের জন্য অন্তত ২৯,৭১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের তহবিল প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।
-
প্রকৃত উদ্দেশ্য: আবেদনকারী সত্যিই পড়াশোনা করতে আসছেন কি না (Genuine Student Test), তা কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
-
ভাষা দক্ষতা: ইংরেজি পরীক্ষায় (IELTS/PTE) আগের চেয়ে উচ্চতর স্কোর প্রয়োজন।
-
ভিসা ফি বৃদ্ধি: শিক্ষার্থী ভিসার ফি বাড়িয়ে ২,০০০ ডলার করা হয়েছে।
উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশকে ‘এভিডেন্স লেভেল ৩’ বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নথিপত্র অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জাল নথিপত্র এবং অসাধু কনসালটেন্সি এজেন্সির ভুল পরামর্শের কারণেও আবেদনগুলো বাতিল হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া ভিসা জটিলতার কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির হার গত বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ কমে গেছে। ‘ইউনিভার্সিটিজ অস্ট্রেলিয়া’র প্রধান নির্বাহী লিউক শিহি জানিয়েছেন, আকস্মিক এই নীতি পরিবর্তনে পুরো শিক্ষা খাত বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আবুল রিজভীর মতে, সরকার অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে শিক্ষার্থী ভিসাকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ এখনো রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সঠিক তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে শতভাগ আপসহীন হতে হবে। প্রতারক এজেন্সির হাত থেকে বাঁচতে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



