‘আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি’ – ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে তোলপাড়
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় যখন মার্কিন নাগরিকদের প্রধান উদ্বেগের কারণ, ঠিক তখনই মূল্যস্ফীতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় তুলেছে। গত তিন বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি।’
মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BLS) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৪.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৩.৮ শতাংশ।
তীব্র সমালোচনার মুখে ট্রাম্পের সাফাই: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবিরের তীব্র সমালোচনার মুখে পরে অবশ্য তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি মূল্যস্ফীতি বাড়াকে সমর্থন করেননি; বরং চলমান যুদ্ধের মধ্যেও পরিস্থিতির আরও অবনতি না হওয়ায় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘যুদ্ধ চলার পরও মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে কম। যুদ্ধ শেষ হলে এটি আরও কমে যাবে এবং সংঘাত শুরুর আগের সময়ের চেয়েও নিচে নেমে আসবে।’
উদ্বেগ ছড়াচ্ছে জ্বালানি তেলের দাম: মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন অটোমোবাইল সংগঠন ‘এএএ’ (AAA)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪.১৫ ডলারে পৌঁছেছে। অথচ গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা শুরুর সময় এই দাম ছিল মাত্র ২.৯৮ ডলার।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির ওপর সরাসরি চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেখানে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা: সরকারি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জ্বালানি তেলের পাশাপাশি বিমান ভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যক্তিগত সেবা, বিনোদন ও যোগাযোগ খাতেও মার্কিন নাগরিকদের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই লাগামহীন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ (Fed) সুদের হার আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বর্তমানে দেশটিতে সুদের হার ৩.৫ থেকে ৩.৭৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
বিরোধী শিবিরের ক্ষোভ: আগামী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে লুফে নিয়েছে বিরোধীরা। ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিয়ে কড়া সমালোচনা করে মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষের কষ্টের প্রতি তাঁর (ট্রাম্পের) অবজ্ঞার আসলে কোনো সীমা নেই।’



