৭৫০ ডলার দিলেই কি দ্রুত মিলবে আমেরিকান ভিসা?
মহিবুল ইসলাম মাসুম
প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২৬
আমেরিকায় ভ্রমণ, ব্যবসা বা পারিবারিক সফরের পরিকল্পনা করছেন এমন মানুষের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা ছিল ভিসা সাক্ষাৎকারের দীর্ঘ অপেক্ষা। অনেক দেশে আবেদনকারীদের কয়েক মাস, কোথাও কোথাও এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই বাস্তবতায় আমেরিকান পররাষ্ট্র দপ্তর একটি নতুন পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নিয়েছে, অতিরিক্ত ৭৫০ মার্কিন ডলার পরিশোধ করলে নির্দিষ্ট শর্তে দ্রুত ভিসা সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাওয়া যাবে।
শুনতে অনেকের কাছে এটি হয়তো “টাকার বিনিময়ে দ্রুত সেবা” মনে হতে পারে। আবার কেউ এটিকে বাস্তবসম্মত একটি বিকল্প হিসেবে দেখবেন। সত্যি বলতে, বিষয়টি এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির মাঝামাঝি।
প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে যে, এই ৭৫০ ডলার কোনো “ভিসা কেনার ফি” নয়। এটি শুধুমাত্র দ্রুত সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত প্রশাসনিক ফি। অর্থ পরিশোধ করলেই ভিসা অনুমোদন হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সাক্ষাৎকার, নথিপত্র যাচাই এবং ভিসা অনুমোদনের সব নিয়ম আগের মতোই বহাল থাকবে।
এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হতে পারেন সেই সব আবেদনকারী, যাদের হঠাৎ ব্যবসায়িক সফর, জরুরি পারিবারিক প্রয়োজন, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ কিংবা নির্দিষ্ট সময়ে ভ্রমণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে যাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাদের জন্য এটি একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
অন্যদিকে, এই ফি যে সবার নাগালের মধ্যে নয়, সেটিও বাস্তবতা। সাধারণ এমআরভি ফি এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার যোগ হলে একজন আবেদনকারীর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফলে এটি মূলত আর্থিকভাবে সক্ষম আবেদনকারীদের জন্য একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে একটি ইতিবাচক দিক হলো, এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। কেউ চাইলে আগের নিয়মেই সাধারণ অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করতে পারবেন। জরুরি মানবিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে দ্রুত সাক্ষাৎকারের বিদ্যমান সুবিধা আগের মতোই চালু থাকবে। অর্থাৎ যাদের প্রকৃত জরুরি প্রয়োজন রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
বাংলাদেশের আবেদনকারীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সুবিধা সব আমেরিকান দূতাবাস বা কনস্যুলেটে একসঙ্গে চালু হবে না। তাই কোনো গুজব বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টের ওপর নির্ভর না করে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের নির্দেশনা এবং সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা উচিত।
আমার পরামর্শ থাকবে, শুধুমাত্র দ্রুত সাক্ষাৎকারের আশায় অপ্রয়োজনীয় ভাবে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করবেন না। যদি আপনার ভ্রমণের সময়সূচি ঠিক থাকে, তাহলে নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্টই যথেষ্ট। কিন্তু যদি সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয় এবং আপনার সেই সামর্থ্য থাকে, তাহলে এই বিকল্পটি বিবেচনা করা যেতে পারে।
সবশেষে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, ভিসা পাওয়ার মূল চাবিকাঠি কখনোই অতিরিক্ত ফি নয়। আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, সঠিক নথিপত্র, আর্থিক সক্ষমতা, নিজ দেশের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক এবং সর্বোপরি সাক্ষাৎকারে সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতাই ভিসা অনুমোদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
নতুন এই ৭৫০ ডলারের দ্রুত সাক্ষাৎ ফি মূলত একটি “ফাস্ট-ট্র্যাক অ্যাপয়েন্টমেন্ট” ব্যবস্থা, এর বেশি কিছু নয়। তাই এটিকে সুযোগ হিসেবে দেখুন, নিশ্চয়তা হিসেবে নয়।
সম্পাদক, ডেল্টা টিভি
সাবেক ইমিগ্রেশন ভিসা টিম লিডার, আমেরিকান দূতাবাস ঢাকা


