রেমিট্যান্সে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে শীর্ষে সৌদি আরব
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:২৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২৬
বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন রেকর্ড হয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি দেশের প্রধান প্রবাসী আয় উৎসের তালিকাতেও পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে আবারও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স উৎসে পরিণত হয়েছে সৌদি আরব।
এর আগে ২০২৪ অর্থবছরে শীর্ষস্থান হারিয়েছিল সৌদি আরব। ২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স উৎস হয়েছিল। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দেশটিতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও কাতার থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবাসী আয় আসছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। তবে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি হওয়ায় মোট প্রবাসী আয়ের হিসাবে দেশটি এগিয়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীরা তুলনামূলক বেশি আয় করলেও সৌদি আরবের বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন।
রেমিট্যান্স বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গ্রামীণ অর্থনীতিতেও রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। প্রবাসী আয়ের অর্থে অনেক পরিবার শিক্ষা, চিকিৎসা ও আবাসন খাতে ব্যয় করছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও বিনিয়োগ বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রবাসী আয় আরও বাড়াতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সুযোগ আরও সহজ করা প্রয়োজন।
সৌদি আরবের আবারও শীর্ষে উঠে আসা প্রমাণ করছে, বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকেও রেমিট্যান্স বাড়লেও সামগ্রিক হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রেমিট্যান্স উৎস।



