একই স্থানে তিন দফা ভূমিকম্প, কারণ কী?
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ১২:৪৩ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২৬
ভুটানে পরপর তিন দফা ভূমিকম্পের ঘটনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। রোববার (৭ জুন) দিবাগত রাতে প্রথমে একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর একই এলাকায় আরও দুটি তুলনামূলক দুর্বল কম্পন রেকর্ড করা হয়।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে ভুটানের রাজধানী থিম্পুর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২৪ কিলোমিটার গভীরে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬।
ভূমিকম্পটির প্রভাব ভুটান ছাড়াও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় অনুভূত হয়। কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে অনেক মানুষ বাসাবাড়ি ও ভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল পেরিয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
এনসিএসের তথ্য বলছে, প্রথম ভূমিকম্পের ১১ মিনিট পর রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে একই এলাকায় ২ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়। এরপর রাত ১২টা ২২ মিনিটে ২ দশমিক ৪ মাত্রার আরও একটি কম্পন রেকর্ড করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর একই এলাকায় ছোট মাত্রার কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ ধরনের কম্পনকে ‘আফটারশক’ বা ‘পরাঘাত’ বলা হয়। ভূত্বকের ভেতরে সৃষ্ট চাপ পুনর্বিন্যাসের কারণে মূল ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন বা কখনো কখনো কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত আফটারশক হতে পারে।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরাঘাত সাধারণত মূল ভূমিকম্পের তুলনায় দুর্বল হয়ে থাকে এবং সময়ের সঙ্গে এর তীব্রতা কমতে থাকে। তাই একই স্থানে পরপর কয়েকটি কম্পন অনুভূত হওয়ার পেছনে আফটারশকই সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ।



