প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজারই প্রধান ইস্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২৬
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আগামী সপ্তাহে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে দুই দেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (MoU) ও দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আগামী ২১ থেকে ২২ জুন কুয়ালালামপুর সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। ২১ জুন বিকালে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে তার। পরদিন ২২ জুন দুই দেশের সরকার প্রধানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এই সফরটি নতুন সরকারের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার হওয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
দুই দেশের বৈঠকে শ্রমবাজার ছাড়াও ভিসা জটিলতা, কনস্যুলার সেবা, অনথিভুক্ত কর্মীদের সমস্যা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আলোচনায় কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির ঘোষণাও আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সেমিকন্ডাক্টর খাত, উচ্চশিক্ষা, রোহিঙ্গা সংকট, কৃষি, হালাল খাদ্য, সুনীল অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও আলোচনায় থাকবে।
সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, “মালয়েশিয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। সেখানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করেন। তাই শ্রমবাজার পুনরায় চালুই হবে সফরের প্রধান অগ্রাধিকার।”
অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্রমবাজারটি খুলতে পারলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হবে। তবে বাজারটি কোন প্রক্রিয়ায় চালু হবে—এ নিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয়ও রয়েছে।
তাদের মতে, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অপরিবর্তিত থাকলে অতীতের মতো সিন্ডিকেট সমস্যা আবারও তৈরি হতে পারে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরের মাধ্যমে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। এরপর একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও শ্রমবাজারটি পুনরায় চালু হয়নি।
বাংলাদেশ থেকে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫১ হাজারের বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। বর্তমানে বাজারটি বন্ধ থাকায় নতুন কর্মী পাঠানো বন্ধ রয়েছে।



