দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণে বিদেশিদের ঢল

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীর আগমন রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেছে ৫ লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষ। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৮০ হাজার। অর্থাৎ চার বছরে বিদেশি শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীর আগমন ছয় গুণের বেশি বেড়েছে।

কোরিয়া ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট বিদেশি আগমন ছিল প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ ৪০ হাজার। এর মধ্যে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের জন্য আসা মানুষের সংখ্যা মোট আগমনের ২ দশমিক ৭ শতাংশ।

তবে বিদেশি আগমনের ক্ষেত্রে পর্যটনই এখনো প্রধান খাত। ২০২৫ সালে পর্যটনের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করেছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ২০ হাজার মানুষ, যা মোট বিদেশি আগমনের ৮৩ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া ব্যবসা ও বাণিজ্যের জন্য এসেছে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার এবং সরকারি কাজে এসেছে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ।

চার বছরে ছয় গুণের বেশি বৃদ্ধি

কোভিড-১৯ মহামারির সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যায়। ২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০ হাজার।

এরপর ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫২ হাজারে। ২০২৩ সালে সংখ্যা বেড়ে হয় ৩ লাখ ১৩ হাজার এবং ২০২৪ সালে ৪ লাখ ৩৫ হাজার। সর্বশেষ ২০২৫ সালে তা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়।

কে-পপ ও কোরিয়ান ড্রামার প্রভাব

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংস্কৃতি বিদেশি শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীর আগমন বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। কে-পপ ও কোরিয়ান ড্রামার বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার কারণে কোরিয়ান ভাষা শেখা এবং দেশটির বিভিন্ন ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ভর্তির আগ্রহ বেড়েছে।

কোরিয়ার সংসদীয় কমিটিতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য জিন সান-মি বলেন, কে-কনটেন্ট শুধু পর্যটনের চাহিদা বাড়াচ্ছে না, দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের আগ্রহও তৈরি করছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্থানীয় সমাজের সাথে মানিয়ে নিতে নীতিগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তরুণদের আগমন বেশি

তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি আগমনের বড় অংশই তরুণদের। ২০ ও ৩০ বছর বয়সী মানুষ মিলিয়ে মোট বিদেশি আগমনের প্রায় ৪৬ শতাংশ।

এর মধ্যে ২০-এর দশকের মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৪৭ লাখ ২০ হাজার। ৩০-এর দশকের মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ ৫০ হাজার।

এ ছাড়া ৪০-এর দশকের মানুষ মোট আগমনের ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ, ৫০-এর দশকের ১১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের সংখ্যা ১২ শতাংশ। ১৯ বছরের কম বয়সীদের অংশ ৯ শতাংশের বেশি।

ফলে পর্যটনের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া এখন বিদেশিদের পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণেরও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠছে। দেশটির জনপ্রিয় সংস্কৃতি, ভাষা ও উচ্চশিক্ষার প্রতি তরুণদের আগ্রহ এ প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।