ইউরোপে অভিবাসী আগমন কমলেও বেড়েছে মৃত্যু

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

ইউরোপে অভিবাসী আগমন কমলেও সমুদ্রপথে মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ ইউরোপে পৌঁছেছেন। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৯৮ হাজারের বেশি। অর্থাৎ আগমন কমেছে প্রায় ৩৯ শতাংশ।

তবে একই সময়ে মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২ হাজার ২৯২ জনে। গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৯৯। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিকের অভিবাসন পথ এখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে অন্যতম।

আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, “সংখ্যাগুলো দুটি গল্প বলে। আগমন কমেছে, কিন্তু মৃত্যু বেড়েছে। প্রায় প্রতিটি মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য। পরিবারগুলো বছরের পর বছর ধরে নিখোঁজদের খোঁজে থাকে।”

ইতালিগামী পথে অভিবাসী আগমনে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে। সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান পথে গত বছর ৪৮ হাজারের বেশি মানুষ ইউরোপে পৌঁছেছিলেন। এ বছর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ হাজারে, যা ৫৫ শতাংশ কম। তবে এই পথেই মৃত্যু বেড়ে ৯৯৬ জনে পৌঁছেছে।

গ্রীসে অভিবাসী আগমন কমে প্রায় ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তবে সেখানে মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ৪১৭ জন।

স্পেনেও অভিবাসী আগমন কমে প্রায় ১৬ হাজারে নেমেছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে—৮৭৯ জন।

এদিকে লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীদের আটক করে ফেরত পাঠানোর অভিযানও চলছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৭ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

আইওএম বলছে, প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একজন মানুষ, একটি পরিবার ও একটি সমাজ। সংস্থাটির মতে, অভিবাসী আগমন কমলেও মৃত্যু বাড়ার একটি কারণ হলো আরও বিপজ্জনক পথে মানুষের যাত্রা। এ পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষা, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

অভিবাসীদের সুরক্ষা জোরদার, স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনে সহায়তা এবং ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন দেশে কাজ করছে আইওএম। ইউরোপীয় অংশীদারদের সাথে সাম্প্রতিক আলোচনাতেও আঞ্চলিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।

আইওএমের ডিসপ্লেসমেন্ট ট্র্যাকিং ম্যাট্রিক্স ও মিসিং মাইগ্র্যান্টস প্রকল্পের তথ্যের ভিত্তিতে এসব হিসাব করা হয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, অনেক দুর্ঘটনা ও নিখোঁজের ঘটনা নথিভুক্ত হয় না। ফলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।