সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যায় রেকর্ড
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
২০২৬ সালে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজারে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কাজের জন্য সিঙ্গাপুরে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ওমান, মালয়েশিয়া, আমেরিকান ভিজিটসহ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা সীমিত থাকায় সিঙ্গাপুরে কর্মী পাঠানোর পরিমাণ বেড়েছে।
তবে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে আরও নিয়ন্ত্রণ আনার ইঙ্গিত দিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং বলেছেন, সিঙ্গাপুর বিদেশি শ্রমিকদের স্বাগত জানাবে, তবে তা হবে ‘সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিত’ উপায়ে। তিনি বলেন, দেশটির জনসংখ্যা ধীরে বাড়বে এবং স্থানীয়দের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে।
এ অবস্থায় ভবিষ্যতে কম দক্ষ বা অদক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজারে সুযোগ কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সিঙ্গাপুর প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উচ্চপ্রযুক্তির শিল্পে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তাই বাংলাদেশকে শুধু নির্মাণশ্রমিকের ওপর নির্ভর না করে দক্ষ ও বহুমুখী কর্মী তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
বর্তমানে সিঙ্গাপুরে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কাজ করছেন। তাদের বড় অংশ নির্মাণ, জাহাজ নির্মাণ ও বাগান পরিচর্যার মতো কাজে যুক্ত। সিঙ্গাপুরের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ বিদেশি শ্রমিক। জন্মহার কমে যাওয়ায় দেশটির শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীর প্রয়োজনও রয়েছে।
এদিকে সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণও দ্রুত বাড়ছে। ২০২২ অর্থবছরে সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৮৫ মিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালে তা বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে সিঙ্গাপুর এখন বাংলাদেশের শীর্ষ ২০ রেমিট্যান্স উৎসের একটি।
তবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশ যাওয়ার উচ্চ খরচ। অনেক শ্রমিক জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে যেতে তাদের ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। অথচ প্রকৃত খরচ ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যে থাকা উচিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিঙ্গাপুরের কয়েকটি কোম্পানি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ তৈরি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার খতিয়ে দেখছে।
এদিকে সিঙ্গাপুরে যাওয়া ৫৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশির সবাই যে নতুন কর্মী, তা নয়। অনেক শ্রমিক আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন ভিসা নিয়ে আবার সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন। ফলে চলতি বছরের পরিসংখ্যানে পুনরায় যাওয়া শ্রমিকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে।



