নতুন অধ্যাদেশে চীনে দেশ ছাড়ার বিধিনিষেধ বাড়ল, বলছে এইচআরডব্লিউ
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৮:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
দেশি-বিদেশি নাগরিকদের চীন ছাড়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। এ লক্ষ্যে স্টেট কাউন্সিলের জারি করা ‘এক্সিট-এন্ট্রি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’–সংক্রান্ত নতুন বিধিমালা গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, ডিক্রি নম্বর ৮৪১-এর এই বিধিমালায় চীনের নাগরিক ও বিদেশিদের দেশ ছাড়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে নতুন বিধিমালার সমালোচনা করে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, অস্পষ্ট জাতীয় নিরাপত্তা ও ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দেশ ছাড়ার অধিকারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এইচআরডব্লিউর এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক মায়া ওয়াং বলেন, চীন সরকার কে দেশ ছাড়তে পারবেন আর কে পারবেন না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ইচ্ছাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বাড়াচ্ছে। মানবাধিকারকর্মী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে আগে থেকেই বিধিনিষেধ ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে বিদেশিদেরও চীন ছাড়ার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারি বিধিমালায় চীনা নাগরিকদের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ দেশ বা অঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ঝুঁকির দেশ বা গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ থেকে তাদের নিরুৎসাহিত করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। তবে ‘প্রয়োজন’ নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে এইচআরডব্লিউ প্রশ্ন তুলেছে।
নতুন বিধিমালায় দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কয়েকটি ক্ষেত্রও নির্ধারণ করা হয়েছে। এইচআরডব্লিউর মতে, বিদেশে অস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত ‘অবৈধ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে কোনো নাগরিককে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত চীন ছাড়তে বাধা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা বা স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হলে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কিংবা প্রযুক্তি আমদানি-রপ্তানি বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যেতে পারে।
বিধিমালায় সাধারণত দেশ ছাড়ার নিষেধাজ্ঞার কারণ, আইনি ভিত্তি ও প্রতিকারের সুযোগ লিখিতভাবে জানানোর কথা বলা হয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা অপরাধ তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে মনে হলে এসব তথ্য না জানানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।
বিদেশিদের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধের সুযোগ রাখা হয়েছে। ‘কাউন্টারমেজারস লিস্ট’, ‘আনরিলায়েবল এনটিটি লিস্ট’ বা ‘ম্যালিশাস এনটিটি লিস্ট’-এ থাকা বিদেশিদের চীন ছাড়তে বাধা দেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। সংস্থাটি ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এক মার্কিন ফেডারেল কর্মী ও ওয়েলস ফার্গোর এক নির্বাহীকে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ ছাড়াই চীন ছাড়তে বাধা দেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেছে।
এইচআরডব্লিউ বলছে, গত এক দশকে চীনে দেশ ছাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে কঠোর হয়েছে। উইঘুরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু, মানবাধিকারকর্মী এবং সরকারি কর্মীদের বিদেশ ভ্রমণেও বাড়তি বিধিনিষেধ আরোপের কথা উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে প্রত্যেক ব্যক্তির যেকোনো দেশ, নিজের দেশসহ, ত্যাগ করার অধিকার স্বীকৃত। তবে জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনস্বাস্থ্য বা অন্যের অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষার মতো বৈধ কারণে আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে। এইচআরডব্লিউর দাবি, চীনের নতুন বিধিমালায় অস্পষ্ট কারণ দেখিয়ে দেশ ছাড়ার ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকায় তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সংস্থাটি আরও বলছে, এ ধরনের বিধিনিষেধ মতপ্রকাশ ও একাডেমিক স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং চীনা নাগরিক ও বিদেশিদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ বাড়াতে পারে।



