নিউজিল্যান্ডে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিসা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

নিউজিল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ওয়ার্ক ভিসা চালু হচ্ছে। আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে এই ভিসায় আবেদন করা যাবে। যারা বিদ্যমান পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার জন্য যোগ্য নন, তারা নতুন ভিসার আওতায় আসতে পারবেন।

নতুন ভিসায় ছয় মাসের জন্য খোলা কাজের অনুমতি থাকবে। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা চাকরি খোঁজার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ভিসার সুযোগ খুঁজে নিতে পারবেন।

একই সাথে কিছু শিক্ষার্থীর জন্য পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার সুযোগও বাড়ানো হচ্ছে। ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করে নিউজিল্যান্ডে লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা এখন পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার জন্য যোগ্য হবেন।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক শিক্ষার্থী বাংলাদেশে স্নাতক শেষ করার পর নিউজিল্যান্ডে গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করতে যান।

তবে নতুন ছয় মাসের ভিসা এবং পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা এক নয়। নতুন ভিসাটি মূলত একটি সাময়িক সুযোগ। এটি দীর্ঘমেয়াদি পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার বিকল্প নয় এবং একবারই পাওয়া যাবে। ফলে নিউজিল্যান্ডে পড়তে যাওয়ার আগে কোর্স ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঠিকভাবে বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজিল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে প্রায় ৯২ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগের কথা বিবেচনা করে কোর্স বেছে নেওয়া উচিত নয়। কোর্সের মান, পড়াশোনার খরচ, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং ভিসার শর্ত—সবকিছু বিবেচনা করতে হবে। কোনো বিষয় জনপ্রিয় হলেই পড়াশোনা শেষে কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়া নিশ্চিত নয়। শিক্ষার্থীর যোগ্যতা এবং নির্বাচিত কোর্সের স্তরও ভবিষ্যৎ সুযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

খরচের বিষয়টিও শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। টিউশন ফি ছাড়াও আবাসন, খাবার, যাতায়াত, বীমা ও দৈনন্দিন খরচ রয়েছে। নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনার জন্য বছরে কমপক্ষে ২০ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার অর্থের সক্ষমতা দেখাতে হয়।

আবাসনের খরচ সপ্তাহে ১৪০ থেকে ৪৮৪ নিউজিল্যান্ড ডলার পর্যন্ত হতে পারে। খাবারের জন্য সপ্তাহে আরও ৮০ থেকে ১২০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

পড়াশোনার সময় শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৫ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পড়াশোনার পুরো খরচ চালানোর জন্য খণ্ডকালীন কাজের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

বর্তমানে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ, ব্যবসা ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি। তবে বিষয় নির্বাচনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ, ইন্টার্নশিপের সুযোগ, কর্মজীবন সহায়তা এবং স্থানীয় চাকরির বাজারও বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।