বিদেশ ভ্রমণের আগে ভিসার ধরন বুঝুন, এড়ান বিমানবন্দর ও ইমিগ্রেশনের ঝামেলা
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২৬
বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? তাহলে ভিসার ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশ ডিজিটাল ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু করেছে। এর আওতায় ই-ভিসা (e-Visa), ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ETA) এবং ভিসা অন-অ্যারাইভাল (Visa on Arrival) সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
গালফ নিউজ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ব্যবস্থার পার্থক্য না বুঝলে বিমানবন্দরে বোর্ডিং বাতিল, সীমান্তে জটিলতা কিংবা শেষ মুহূর্তে ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে।
ভিসামুক্ত (Visa-Free) ভ্রমণ
ভিসামুক্ত ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো দেশের নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই অন্য দেশে প্রবেশ করতে পারেন। সাধারণত বৈধ পাসপোর্ট থাকলেই হয়, তবে কিছু দেশে অতিরিক্ত শর্ত বা নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে।
ভিসা অন-অ্যারাইভাল (Visa on Arrival)
ভিসা অন-অ্যারাইভাল হলো এমন ব্যবস্থা, যেখানে ভ্রমণকারী গন্তব্য দেশের বিমানবন্দর বা সীমান্তে পৌঁছে ভিসা গ্রহণ করেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণত নির্ধারিত ফি, আবেদন ফরম, ছবি এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়। তবে এটি আগাম অনুমোদিত ভিসার মতো নিশ্চিত প্রবেশাধিকার দেয় না।
ই-ভিসা (e-Visa)
ই-ভিসা হলো অনলাইনে আবেদন করে আগে থেকেই সংগ্রহ করা পূর্ণাঙ্গ ভিসা। আবেদনকারীকে পাসপোর্টের কপি, ছবি এবং প্রয়োজনীয় নথি অনলাইনে জমা দিতে হয়। অনুমোদনের পর ভিসা ডিজিটালভাবে ইস্যু করা হয়। ভারত, মিসর, ভিয়েতনামসহ অনেক দেশ বর্তমানে এই ব্যবস্থা চালু করেছে।
ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ETA)
ইটিএ (ETA) আসলে ভিসা নয়। এটি ভিসামুক্ত ভ্রমণকারীদের জন্য একটি অনলাইন নিরাপত্তা অনুমোদন ব্যবস্থা। আবেদন প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ এবং দ্রুত সম্পন্ন হয়। যুক্তরাজ্যের ETA এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন্ন ETIAS এ ধরনের ব্যবস্থার উদাহরণ।
তিন ধরনের ব্যবস্থার মূল পার্থক্য
ই-ভিসা: ভ্রমণের আগে অনলাইনে পূর্ণাঙ্গ ভিসা সংগ্রহ করতে হয়।
ইটিএ (ETA): ভিসামুক্ত ভ্রমণকারীদের জন্য অনলাইন ভ্রমণ অনুমোদন।
ভিসা অন-অ্যারাইভাল: গন্তব্যে পৌঁছে ভিসা সংগ্রহ করা হয়।
ভিসার ধরন নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। যেমন, যেখানে ই-ভিসা প্রয়োজন সেখানে ভুল করে ইটিএ আবেদন করলে বিমানেই উঠতে দেওয়া নাও হতে পারে। আবার ভিসা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা আছে ধরে ভ্রমণ করলেও যদি সেই সুবিধার জন্য যোগ্য না হন, তাহলে সীমান্ত থেকেই ফেরত পাঠানো হতে পারে। এমনকি বৈধ ভিসা বা অনুমোদন থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার ওপর নির্ভর করে।
তাই বিদেশ ভ্রমণের আগে নিজের জাতীয়তা, গন্তব্য দেশ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ ভিসা নীতিমালা ভালোভাবে যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।



