বিনাখরচে মালয়েশিয়া যেতে যা করতে হবে

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:১২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২৬

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপেই ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ‘জিরো কস্টে’ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। অর্থাৎ, এসব কর্মীর কাছ থেকে বিমান ভাড়াসহ অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো খরচ নেওয়া হবে না।

তবে এখনো কর্মী নিয়োগের বিস্তারিত প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ হয়নি। তাই যারা মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী, তাদের এখনই কোনো ব্যক্তি, দালাল বা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে বিস্তারিত নির্দেশনা ও নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিকেল পরীক্ষা কিংবা পাসপোর্ট জমা দেওয়া যাবে না।

কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন

মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহীদের এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রথমেই পাসপোর্টের মেয়াদ ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে হবে।

সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেখানে উল্লেখিত যোগ্যতা ও শর্ত অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। কোন খাতে কত কর্মী নেওয়া হবে, কারা আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদন ও নিয়োগের প্রক্রিয়া কী হবে—এসব তথ্য সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে।

এ ক্ষেত্রে প্রতারণার বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। ‘আগে টাকা দিন, মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেব’—এ ধরনের প্রলোভনে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। সরকারি নির্দেশনা ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কোন প্রক্রিয়ায় কর্মী যাবেন

মালয়েশিয়া সরাসরি বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করেছে। এর পাশাপাশি আরও ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)ও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

প্রথম ধাপের ১০ হাজার কর্মীকে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মীদের কাছ থেকে বিমান ভাড়াসহ অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যয় নেওয়া হবে না।

কর্মীদের নিরাপত্তায় গুরুত্ব

এবারের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার। কর্মস্থলে সরাসরি নিয়োগ, নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে কর্মীদের হয়রানি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

‘জিরো কস্ট’ বলতে কী বোঝায়

‘জিরো কস্ট’ বা বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাওয়া মানে নিজের ইচ্ছামতো সব ধরনের খরচ ছাড়াই বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নয়। এর অর্থ হলো, সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত কর্মীদের কাছ থেকে বিমান ভাড়াসহ অভিবাসন-সংক্রান্ত নির্ধারিত ব্যয় নেওয়া হবে না।

তবে কারা এই সুযোগ পাবেন, কী যোগ্যতা থাকতে হবে, কোন খাতে কর্মী নেওয়া হবে এবং নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া কী হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

তাই সরকারি নির্দেশনা প্রকাশের আগে কোনো দালাল বা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।