চলছে ভিসা প্রতারণা

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার আগেই সক্রিয় দালালচক্র

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৫৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা শুরু হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এর মধ্যেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারক ও দালালচক্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশগামীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

প্রতারকচক্রের অন্যতম প্রচলিত কৌশল হলো ‘ফ্রি ভিসা’ বা বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রলোভন দেখানো। এ ধরনের আশ্বাস দিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। অথচ মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ‘ফ্রি ভিসা’ বলে কোনো আলাদা ব্যবস্থা নেই। তাই এ ধরনের প্রস্তাবকে প্রতারণার লক্ষণ হিসেবে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়ায় গিয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলছে কোনো কোনো দালাল। কিন্তু ট্যুরিস্ট ভিসায় কাজ করা দেশটির আইনে বৈধ নয়। ফলে এ ধরনের প্রলোভনে পড়ে বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রতারণার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিপফেক ভিডিও তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ভুয়া চাকরির চুক্তিপত্র, নিয়োগপত্র ও ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত নথি তৈরি করে টাকা দাবি করছে প্রতারকচক্র।

দালালরা সাধারণত কোনো ধরনের যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা ছাড়াই উচ্চ বেতনের চাকরির নিশ্চয়তা দেয়। এরপর ‘কোটা সীমিত’, ‘সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে’ বা ‘আজই টাকা দিতে হবে’—এ ধরনের কথা বলে দ্রুত টাকা পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর বা বিনা মূল্যের ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে যোগাযোগ করা হয়। এসব বিষয়কেও প্রতারণার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এজেন্সির বৈধতা যাচাই জরুরি

মালয়েশিয়ায় কাজের জন্য কোনো এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার আগে সেটি বৈধ কি না, তা যাচাই করা জরুরি। এজন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন যাচাই করতে হবে।

একইভাবে, ভিসা বা নিয়োগসংক্রান্ত কোনো নথি হাতে পেলে সেটি সত্যি কি না, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত পদ্ধতিতে যাচাই করা উচিত। শুধু দালালের দেখানো কাগজ বা মোবাইল ফোনে পাঠানো ছবি দেখে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ নয়।

চাকরির সুনির্দিষ্ট নিয়োগপত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা এজেন্সিকে বড় অঙ্কের টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট, ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত সেবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করাও জরুরি।

শ্রমবাজার খোলার আগেই প্রতারণার আশঙ্কা

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চললেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে বর্তমানে কেউ যদি মালয়েশিয়ার চাকরি, ভিসা বা কোটা নিশ্চিত করার কথা বলে টাকা দাবি করে, তাহলে বিষয়টি যাচাই না করে অর্থ দেওয়া উচিত নয়।

বিশেষ করে ‘ফ্রি ভিসা’, ‘ট্যুরিস্ট ভিসায় কাজ’, ‘দ্রুত ভিসা’, ‘সীমিত কোটা’ বা ভুয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হলে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং অনুমোদিত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট যোগ্যতা ও আবেদনের নিয়ম জানা যাবে।

বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রতারণা এড়াতে সরকারি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই নিরাপদ। দালালের কথায় বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিজ্ঞাপনে বিশ্বাস করে টাকা দিলে অর্থ হারানোর পাশাপাশি বিদেশযাত্রার সুযোগও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।