‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর পর এবার আলোচনায় ‘খ্যাপাটে নেতানিয়াহু’

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২:০৮ পূর্বাহ্ণ, মে ১৫, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের কোরবানির পশুর হাটে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষ বিক্রির পর এবার নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ‘নেতানিয়াহু’ নামের আরেক খ্যাপাটে মহিষ। গোলাপি রঙের অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটিকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের দাসেরগাঁও এলাকার এস এস ক্যাটেল ফার্মে থাকা মহিষটির ওজন প্রায় ৭৬০ কেজি। খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর আচরণ ও চেহারার কারণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র নাম অনুসারে মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘নেতানিয়াহু’।

খামারি ও রাখালদের ভাষ্য, মহিষটির স্বভাব বেশ বদমেজাজি। খাবার দিতে গেলেও অনেক সময় সিং উঁচিয়ে তেড়ে আসে। এ কারণেই দর্শনার্থীদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দেখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

খামার পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার অনেকে দূর থেকে দাঁড়িয়ে মহিষটির ‘রাগী লুক’ দেখে মজা নিচ্ছেন। দর্শনার্থীদের কেউ কেউ বলছেন, “চোখের চাহনি আর চুলের স্টাইল দেখলে সত্যিই নেতানিয়াহুর কথা মনে পড়ে।”

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাফসান রাদিব বলেন, “ফেসবুকে নাম শুনে দেখতে এসেছি। কাছে যেতেই এমনভাবে তাকিয়েছে, মনে হলো এখনই গুঁতো দেবে।”

আরেক দর্শনার্থী রিজিয়া বলেন, “মহিষটার মেজাজ খুব গরম। খামারিরা আদর করতে গেলেও উল্টো তেড়ে আসে।”

খামারের কর্মী আল আমিন জানান, দিনে দুইবার গোসল, পুষ্টিকর খাবার ও বিশেষ যত্নে বড় করা হচ্ছে মহিষটিকে। তবে তার কাছে যেতে সবাই কিছুটা ভয় পান।

ফার্মের ব্যবস্থাপক মেহেদি বলেন, “চুলের সিঁথি, চোখের চাহনি আর রাগী আচরণের কারণেই নাম রাখা হয়েছে ‘নেতানিয়াহু’। ছোট থেকেই একটু দুষ্টু স্বভাবের, তবে দেখতে সুন্দর হওয়ায় সবাই পছন্দ করছে।”

খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইভ ওজনে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে মহিষটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের আশা, কোরবানির আগেই ‘সেলিব্রিটি মহিষ’টি বিক্রি হয়ে যাবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর নারায়ণগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় প্রায় ১০ হাজার পশু বেশি রয়েছে। জেলার বিভিন্ন খামারে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়াসহ বিপুলসংখ্যক পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

এর আগে শহরের পাইকপাড়া এলাকার একটি খামারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মতো দেখতে একটি মহিষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে। পরে সেটি ঢাকার এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়।